বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় মৎস্য ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে চিংড়াখালী ইউনিয়নে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জেলেদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব, জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ এবং স্লিপ বাণিজ্যের কারণে প্রকৃত জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শনিবার (২৩ মে) চিংড়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মৎস্য কার্ডের চাল বিতরণের সময় প্রকৃত কার্ডধারী জেলেরা বাদ পড়ার অভিযোগে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানান। এ সময় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চাল বিতরণের আগে কার্ডধারীদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন খরচের কথা বলে নগদ টাকা আদায় করেন। এছাড়া তালিকাভুক্ত প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে শুধু স্লিপধারীদের চাল দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রবাসী, মৃত ব্যক্তি, মৎস্য কার্ডবিহীন ব্যক্তি এবং অযোগ্যদের নামেও চাল বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে চাল বিতরণের সময় ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে চিংড়াখালী ইউনিয়নের প্রশাসক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “চাল বিতরণের সময় কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল। পরে সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ত্রিদিপ কুমার বিশ্বাসও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “চাল বিতরণের সময় কিছু সমস্যা হয়েছিল। পরে আমরা তা নিষ্পত্তি করেছি।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে এবং মাস্টাররোল যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, “কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”





































