ঢাকা,   মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪

The South Asian Times | সাউথ এশিয়ান টাইমস

স্বজাত্যবোধে দীপ্ত এক বাঙালি মানব

দুলাল আচার্য

প্রকাশিত: ১২:৩৬, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

স্বজাত্যবোধে দীপ্ত এক বাঙালি মানব

জাতি ভাষার নামে আমাদের বাংলাদেশ। এই রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য সকল
শ্রেণীপেশার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান। তিনি সমগ্র জাতিকে দীক্ষিত করে তুলেছিলেন দেশের স্বাধীনতা
অর্জনের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে। জাতিও তাঁর নির্দেশ মন্ত্রমুগ্ধের মতো
পালন করেছিল। সেই স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন তথা বাংলাদেশ নামক
দেশটির প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত তাঁর সংগ্রাম ছিল আত্মনিবেদিত। তারপর সদ্য
স্বাধীন ও ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি দেশকে এগিয়ে নেয়ার ইতিহাস ও তার সংগ্রাম।
তাঁর নেতৃত্বের দৃশ্যমান সূচনা হয়েছিলেন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির
আন্দোলনে। জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে তিনিই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছিলেন
বাংলা ভাষাকে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুই ১৯৭৪-এর ২৫
সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলায়
ভাষণ দিয়ে বিশ্বকে জানান দেন বাঙালির দীপ্ত শপথের কথা। ওই শতাব্দীর
শুরুতে ১৯১৩ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পেয়ে বাংলা
ভাষাকে বিশ্বে অনুষ্ঠানিক পরিচয়ের সূচনা করেন। সেই অধ্যায়ের ৬ দশক পর
বাঙালি জাতির মুক্তির নায়ক শেখ মুজিব জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা
ভাষাকে আবারও বিশ্বের কাছে তুলে ধরেন।
সূচনা হয়েছিল এভাবে, ১৭ সেপ্টেম্বর (১৯৭৪) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ
বাংলাদেশকে সদস্য হিসেবে গ্রহণ করে। চীন বাংলাদেশের ব্যাপারে ভেটো দেয়া
থেকে বিরত থাকে। এতে বাংলাদেশের সদস্য পদ পাওয়ার দ্বার খুলে যায়। সংবাদ
পেয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সর্বত্র আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। তখন
বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অপরিহার্য ছিল। ২৩
সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু ঢাকা ত্যাগ করেন। রেওয়াজ
অনুযায়ী ওই সময় জাতিসংঘে ৬টি ভাষায় বক্তৃতা দেয়ার বিধান ছিল। ৬টির মধ্যে
বাংলা ভাষা ছিল না। আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাভাষী এই নেতার বক্তৃতা শুনে
উপস্থিত সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানগণ মুগ্ধ হন। ভাষণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে
উপস্থিত বিশ্বনেতারা নিজ আসন থেকে উঠে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন। বাংলা ভাষা কার্যত সেদিন থেকেই
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদা লাভ করে।
সেদিন আমাদের জাতির পিতা তাঁর ভাষণের শুরুটা করেছিলেন এভাবেÑ ‘জনাব
সভাপতি, আজ এই মহামহিমান্বিত সমাবেশে দাঁড়াইয়া আপনাদের সাথে আমি এই জন্য
পরিপূর্ণ সন্তুষ্টির ভাগীদার যে, বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষ আজ এই
পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করিতেছেন। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের
পূর্ণতা চিহ্নিত করিয়া বাঙালি জাতির জন্য ইহা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার অর্জনের জন্য এবং একটি স্বাধীন দেশে মুক্ত
নাগরিকের মর্যাদা নিয়া বাঁচার জন্য বাঙালি জনগণ শতাব্দীর পর
শতাব্দীব্যাপী সংগ্রাম করিয়াছেন, তাঁহারা বিশ্বের সকল জাতির সাথে শান্তি
ও সৌহার্দ্য নিয়া বাস করিবার জন্য আকাক্সিক্ষত ছিলেন। যে মহান আদর্শ
জাতিসংঘ সনদে রক্ষিত আছে, আমাদের লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই আদর্শের জন্য
সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করিয়াছেন। আমি জানি- শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার
উদ্দেশ্যে সকল মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের উপযোগী একটি বিশ্ব
গড়িয়া তোলার জন্য বাঙালি জাতি পূর্ণ প্রতিশ্রæতিবদ্ধ, আমাদের এই
অঙ্গীকারের সাথে শহীদানের বিদেহী আত্মাও মিলিত হইবে। ইহা বিশেষ আনন্দের
ব্যাপার যে, স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন সক্রিয়যোদ্ধা সভাপতি থাকাকালেই
বাংলাদেশকে এই পরিষদের অন্তর্ভুক্ত করিয়া নেওয়া হইয়াছে। জনাব সভাপতি, গত
বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ দেশগুলির শীর্ষ
সম্মেলনের সাফল্যের ব্যাপারে আপনাদের মূল্যবান অবদানের কথা আমি স্মরণ
করিতেছি।’
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী জনগণের উদ্দেশে  বলেন,
‘যাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ বিশ্ব-সমাজে স্থানলাভ করিয়াছে, এই
সুযোগে আমি তাঁদেরকেও অভিবাদন জানাই। বাংলাদেশের সংগ্রামে সমর্থনদানকারী
সকল দেশ ও জনগণের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেছি। বাংলাদেশের
স্বাধীনতা সংহতকরণ, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ
মোকাবিলায় বাংলাদেশকে যাঁহারা মূল্যবান সাহায্য দিতেছেন, তাঁহাদেরকেও
আমরা ধন্যবাদ জানাই। জাতিসংঘে যাঁহারা আমাদের স্বাগত জানাইয়াছেন,
তাঁহাদেরকে আমি বাংলাদেশের পক্ষ হইতে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাইতেছি।’
ভাষণের এক অংশে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘মানবের অসাধ্য সাধন ও দুরূহ বাধা
অতিক্রমের অদম্য শক্তির প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থার কথা আবার ঘোষণা করতে
চাই। আমাদের মতো দেশসমূহ, যাদের অভ্যুদয় সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে, এই
আদর্শে বিশ্বাসই তাদের বাঁচিয়ে রাখবে। আমাদের কষ্ট স্বীকার করতে হতে
পারে। কিন্তু আমাদের ধ্বংস নাই। এই জীবনযুদ্ধের মোকাবেলায় জনগণের
প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাই শেষ কথা। আত্মনির্ভরশীলতাই আমাদের
লক্ষ্য। জনগণের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগই আমাদের নির্ধারিত কর্মধারা। এতে
সন্দেহের কোনো অবকাশ নাই যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পদ ও
প্রযুক্তিবিদ্যায় অংশীদারিত্ব আমাদের কাজকে সহজতর করতে পারে, জনগণের
দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে পারে। কিন্তু আমাদের ন্যায় উদীয়মান দেশসমূহের অবশ্যই
নিজেদের কার্য-ক্ষমতার প্রতি আস্থা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, শুধু
জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা আমাদের নির্দিষ্ট
লক্ষ্যে  পৌঁছতে সক্ষম হতে পারি, গড়ে তুলতে পারি উন্নততর ভবিষ্যৎ’।
ভাষণে আগামীদিনের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লে¬খ করে বঙ্গবন্ধু বলেন-‘...আজিকার
দিনে বিশ্বের জাতিসমূহ কোন পথ বাছিয়া নিবে তাহা লইয়া সংকটে পড়িয়াছে। এই
পথ বাছিয়া নেওয়ার বিবেচনার ওপর নির্ভর করিবে আমরা সামগ্রিক ধ্বংস, ভীতি
এবং আণবিক যুদ্ধের হুমকি নিয়া এবং ক্ষুধা, বেকার ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে
মানবিক দুর্গতিকে বিপুলভাবে তাড়াইয়া আগাইয়া যাইব অথবা আমরা এমন এক বিশ্ব
গড়িয়া তোলার পথে আগাইয়া যাইব  যে বিশ্বে মানুষের সৃজনশীলতা এবং আমাদের
বিজ্ঞান ও কারিগরি অগ্রগতি আণবিক যুদ্ধের হুমকিমুক্ত উজ্জ্বলতর ভবিষ্যতের
রূপায়ণ সম্ভব করিয়া তুলিবে এবং যে কারিগরি বিদ্যা ও সম্পদের পারস্পরিক
অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সর্বক্ষেত্রে সুন্দর জীবন গড়িয়া তোলার অবস্থা
সৃষ্টি করিবে। যে অর্থনৈতিক উত্তেজনা স¤প্রতি সমগ্র বিশ্বকে নাড়া দিয়াছে
তাহা একটি ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়িয়া তুলিয়া জরুরিভাবে
মোকাবিলা করিতে হইবে।’
ভাষণে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধু
বলেন- ‘বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের অঙ্গীকার প্রমাণের জন্য উপমহাদেশে
আপোষ মীমাংসার পদ্ধতিকে আমরা জোরদার করেছি।’ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির
কাছে পরাস্ত পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের জন্য যেসব পদক্ষেপ
ও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেসব কথাও তিনি ভাষণে উল্লে¬খ করেন। তিনি বলেন-
‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশের অভ্যুদয় বস্তুতপক্ষে এই উপমহাদেশে
শান্তির কাঠামো এবং স্থায়িত্ব প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অবদান রাখিবে।’
বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে স্বাধীনতাযুদ্ধকালে ধ্বংসলীলা নানা ষড়যন্ত্রের কথা
উল্লেখ করে বলেছেন- ‘সা¤প্রতিক বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে
বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষাবস্থা সৃষ্টি হইয়াছে।’ অবশ্য সেই পরিস্থিতির দ্রæত
উত্তরণ ঘটে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে।
ভাষণের শেষ ভাগে বঙ্গবন্ধু বলেনÑ ‘জনাব সভাপতি, মানুষের অজয় শক্তির প্রতি
বিশ্বাস, মানুষের অসম্ভবকে সম্ভব করিবার ক্ষমতা এবং অজেয়কে জয় করিবার
শক্তির প্রতি অকুণ্ঠ বিশ্বাস রাখিয়া আমি আমার বক্তৃতা শেষ করিতেছি। আমরা
দুঃখ ভোগ করিতে পারি, কিন্তু মরিব না। টিকে থাকবার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
করিতে জনগণের দৃঢ়তাই চরম শক্তি। আমাদের স্বনির্ভরতা।’
প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণদানকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
ন্যায়সঙ্গত কথা বলতে কাউকে পরোয়া করেননি। এমনকি  সেসময় কয়েক সপ্তাহ আগে
দেয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হেনরি কিসিঞ্জারের একটি বক্রোক্তিরও
জবাব দেন খোদ সেদেশে বসেই। ড. কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ইধহমষধফবংয রং ধহ
রহঃবৎহধঃরড়হধষ নধংশবঃ পধংব ওই সফরে ওয়াশিংটনে বসেই কিসিঞ্জারের বাজে
বক্তব্যের জবাব দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এক সংবাদ সম্মেলনে
বঙ্গবন্ধু বলেন- ‘কেউ কেউ বাংলাদেশকে রহঃবৎহধঃরড়হধষ নধংশবঃ পধংব’ বলে
উপহাস করেন। কিন্তু বাংলাদেশ নধংশবঃ পধংব নয়। দুশ’ বছর ধরে বাংলাদেশের
সম্পদ লুট করা হয়েছে। বাংলাদেশের সম্পদেই শ্রীবৃদ্ধি করা হয়েছে লন্ডন,
ডান্ডি, ম্যানচেস্টার, করাচী, ইসলামাবাদের।... আজো আমাদের অফুরন্ত সম্পদ
রয়েছে। একদিন আমরা দেখাবো বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে।’
বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে আরও যা যা বলেছিলেন সেসবের বিশ্লেষণ করলে আমরা
স্পষ্টতই দেখতে পাই শেখ হাসিনা মূলত সে ভাষণেরই প্রতিপাদ্যকে তাঁর নিজের
জীবন ও দেশ পরিচালনার আদর্শে যুক্ত করে নিয়েছেন। ১৯৭৪ সালে বিশ্ব দরবারে
দেয়া এই দিকনির্দেশনার সঠিক অনুসরণ আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস্তব ও
সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে যেসব দেশের জন্ম মানুষের
কল্যাণই তো সেসব দেশের আদর্শ। বঙ্গবন্ধু এরকম এই জীবনযুদ্ধের মোকাবেলায়
জনগণের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাই শেষ কথা মনে করেছেন যা হলো
আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন।
একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে মুক্ত ও সম্মানজনক জীবন যাপনের
অধিকারের জন্য বাঙালি জাতি বহু শতাব্দী ধরে সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে। চেয়েছে
বিশ্বের সকল জাতির সাথে শান্তি ও সৌহার্দ্যরে মধ্যে বসবাস করতে। জাতিসংঘ
সনদে যে মহান আদর্শের কথা বলা হয়েছে তা আমাদের জনগণের আদর্শ এবং এ
আদর্শের জন্য তারা চরম ত্যাগ স্বীকার করেছে। এমন এক বিশ্ব-ব্যবস্থা গঠনে
বাঙালি জাতি উৎসর্গীকৃত, যে ব্যবস্থায় সকল মানুষের শান্তি ও ন্যায়বিচার
লাভের আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত। ভাষণের পরতে পরতে উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্ব
পরিসরে বাংলাদেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর দার্শনিক ভাবনার বিবরণ যার প্রতিফলন এখন
দেখা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনায়। বঙ্গবন্ধু যে
বিশ্ব ব্যবস্থার স্বপ্নের কথা সেদিন ভাষণে বলেছিলেন, যে ব্যবস্থায় সকল
মানুষের শান্তি ও ন্যায়বিচার লাভের পরিবেশ গড়ে ওঠবে, আজ সেরকম এক বিশ্ব
ব্যবস্থার প্রতিরূপেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারের নেতৃত্বের আসনে উন্নীত
হয়েছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যে বাঙালি জাতি
কলঙ্কমোচনের দায় মাথায় নিয়ে সময় পার করছিলো বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও
মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বিচারের মাধ্যমে সেই
কলঙ্কমোচনের ধারা সূচিত হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দেশের অগ্রযাত্রার
সংগ্রাম। বলা যায়, শেখ হাসিনার দর্শন চিন্তায় ও তাঁর নেতৃত্ব সক্ষমতায় আজ
মানবিক বাংলাদেশের যে উত্তরণ ঘটছে তা জাতিসংঘে দেয়া আমাদের জাতির পিতার
ভাষণের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দিয়ে
বঙ্গবন্ধু এক যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। সেই ভাষণ দেয়ার ৪৯তম
বার্ষিকী আজ। এই দিনে ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে পরম
শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
লেখক : সহকারী সম্পাদক, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)

সর্বশেষ

Advertisement

সর্বাধিক জনপ্রিয়