শীত মানে সরিষার ক্ষেতে রাঙা ফুলের হলুদ চাহনি, পাকা ধানের ক্ষেতে নবান্নের আবাহন, রাস্তার ধারে ঘাসের ডগায় বিন্দু বিন্দু জলের হাসি, গাঁদাফুলের পরাগে প্রজাপতির ডানা ঝাপটানোর খেলা, কচুগাছের সবুজ পল্লবে থরে থরে সাজানো মায়াবী জলের ফোঁটা
কুয়াশাসিক্ত কলাপাতার শ্যামল বিছানা, নদীর ওপারে ধোঁয়াশার স্বপ্নমাখা শুভ্রবসনা মোহময়ী দেবীর শাড়ির আঁচল, লজ্জাবতী লতার আলতো ছোঁয়ার জলীয় কম্পন, রহস্যময়তায় ভরা বন-বনানীর আধো আলো আধো ছায়ার স্বপ্নিল মায়া,
গাছের ডগায়, নদীর জলে আর পদ্মপুকুরে কুয়াশায় ঘেরা নিঃসীম সাদার মায়াজাল, টিনের চালে রাতভর কুয়াশার বৃষ্টি, কাকভোরে আগুন পোহাতে গোল হয়ে বসে মায়ের হাতে খড়-কাঠের আগুনে পোড়ানো পিঠা খাওয়া, সকালের অলস রোদে গাছির কোমরে দোলানো খেজুর রসের কলসি থেকে নেয়া আকণ্ঠ তাজা রসপান,
সবজি ক্ষেতে কাক ডাকা ভোরে কৃষকের ছাই ছিটানো, গরু-ছাগলের পাল নিয়ে রাখাল বালকের ঘাসমাঠের দিকে ছুটে চলা, গামছা মাথায় কৃষ্ণ গায়ে চাদর মোড়ানো গাড়িয়ালের মেঠোপথে গরুর গাড়ি নিয়ে দুলকি চালে দূর পথ পাড়ি, ঠকঠক শীতে লাঠি হাতে জবুথবু লাঠিবুড়ির এলোমেলো পথচলা।
শীত মানে মাঠে মাঠে গোল্লাছুট আর ফসলকাটা ক্ষেতে হাডুডু খেলার শিহরণ, হাঁটুপানিতে জাল ফেলে পড়ন্ত বিকালে ঢেউহীন নদীতে মাছ ধরা, নবান্নের উৎসবে কৃষাণীদের মেতে ওঠা, নতুন বৌয়ের বাপের বাড়ি নাইওর যাওয়া, খড় বিছানো আঙ্গিনায় জোছনার হাসির বন্যায় শিশু-কিশোরদের হল্লা, রাস্তার ধারের চা দোকানে ধোঁয়া ওড়ানো চায়ের কাপে চুমুক দেয়া, ভেজা সকালে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে রাজনীতির ঝড় ওঠানো, বিলাস-গল্পে সময় কাটানো, পৌষ-মাঘের হিমেল সকালে উদোম গায়ে সরিষার তেল মেখে সোনালি রোদে গা বিছিয়ে দেয়া।
শীত মানে হাকালুকির হাওরে ছুটে আসা পরিযায়ী পাখির ডানা ঝাপটানো উচ্ছল কলকাকলি, ডুবন্ত সূর্যের লাল আভা মাখানো আকাশের গা ঘেঁষে ছন্দ তুলে ঝাঁক ঝাঁক পাখির কিচিরমিচির শব্দে নীড়ে ফেরা, নম্র-লাজুক ঘোমটা-টানা কৃষক-বউয়ের কলসি কাঁখে পানি নেয়া, শীত-বিকালে রাখালের হইহই তাড়নায় অলস ভঙ্গিতে ভেড়ার পালের ঘরমুখী চলা, ফসলকাটা শুকনো মাঠে কিশোর-কিশোরীদের দুরন্তপনা, লাটিম খেলা থেকে ছুটে গিয়ে রঙিন ঘুড়ির আকাশছোঁয়া।




































