মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ম্যাব) আয়োজিত ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের স্বাস্থ্যখাতে ভূমিকা, প্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ডি-ম্যাবের উপদেষ্টা এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের সার্বিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিপুল সংখ্যক দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন। এ বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বমানের ও সুসংহত করতে চলতি বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঐক্য ও পারস্পরিক সংহতি ছাড়া কোনো পেশাগত সমস্যা টেকসইভাবে সমাধান সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে পেশাগত ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে নাগরিক ও পেশাগত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের একার পক্ষে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য সকলের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের জন্য সৃষ্ট ৩ হাজার ২০০টি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতেও এসব দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় ডি-ম্যাবের সদস্যদের পক্ষ থেকে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনায় ৩৫ হাজার বেকার ডিএমএফ ডিগ্রিধারীকে অগ্রাধিকার এবং বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ২০০টি শূন্য পদে দ্রুত পদায়নের দাবি জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রী সকল যৌক্তিক দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
ডি-ম্যাবের আহ্বায়ক মো. শহীদুল্লাহ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।





































