এক বা দুই কোটি নয়, চুরানব্বই কোটি টাকার ব্লাংক চেকে স্বাক্ষর এই টাকা কাকে বা কাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে খুলনা ওয়াসা ভবনে চলছে নানান গুঞ্জন| আলোচিত এই ৯৪ কোটি টাকার ৪টি চেক প্রদান করা হয়েছে| সেখানে ২টিতে ২৪ কোটি এবং ২টিতে ২৩ কোটি টাকার অঙ্ক লেখা রয়েছে| তবে চারটি চেকে কারো নাম বা তারিখ উল্লেখ নেই| এই দুইটি জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে| শুধু টাকার অঙ্ক ও প্রদানকারীর স্বাক্ষর রয়েছে| সম্প্রতি ফাঁস হয়ে যাওয়া ওই চেকের ফটোকপিতে দেখা যায়, সাউথইস্ট ব্যাংক খুলনা শাখার ০০৭২১০০০১৭৮৫৯ ন¤^র একাউন্টের চেক না¤^ার সবস ৩৭৫৩৩৩৫ ও ৩৭৫৩৩৩৬ এর মাধ্যমে ২৪ কোটি টাকা করে ৪৮ কোটি ও চেক না¤^ার সবস ৩৭৫৩৩৩৭ ও ৩৭৫৩৩৩৮ এর মাধ্যমে ২৩ কোটি টাকা করে ৪৬ কোটি টাকার চেক প্রদান করা হয়| ফটোকপিতে দুই জায়গায় গ্রহণকারী হিসেবে গউ ঘধযরফঁ ওংষধস (মো: নাহিদুল ইসলাম) নামের এক অজ্ঞাত ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে সেখানে মো: নাহিদুল ইসলাম বুঝিয়া পাইলাম বলে উল্লেখ রয়েছে| খুলনা ওয়াসার অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই চেশটিতে স্বাক্ষর রয়েছে খুলনা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রেজাউল ইসলামের| খুলনা ওয়াসাতে গুঞ্জন রয়েছে, আওয়ামী ঘরনার বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ নেতা এই নির্বাহী প্রকৌশলী বিগত দিনে খুলনার শেখ বাড়ি বলে খ্যাত রথি মহারথিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন| তিনি ওই সময় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (আওয়ামী সরকারের নিয়োগকৃত) আলোচিত সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ আলমগীরের স্নেহধন্য ছিলেন এবং আইইবি নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রকৌল পরিষদ থেকে নির্বাচন করেন| ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে তিনি বলতে থাকেন তিনি আগে শিবির করতেন| এদিকে খুলনা ওয়াসার দ্বিতীয় পর্যায়ের ফেস-২ প্রকল্পের পিডি (প্রজেক্ট ডাইরেক্টর) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য তিনি দৌড়-ঝাপ শুরু করেন| ফেস-২ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫ শত ৯৮ কোটি টাকা| পিডি হওয়ার ব্যবহার করেন ˆবষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপি নেতাদের| শুরু হয় জোর তদবির| তার বিরুদ্ধে খুলনার নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন সংগঠন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নানা কর্মসূচি পালন করে| এক পর্যায়ে সকলকে অবাক করে গত ২০২৫ সালের ১১ ডিসে¤^র সাবেক ˆবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমš^য়ক বর্তামান এনসিপি নেত্রী ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাস&সুম ঢাকা থেকে খুলনায় এসে হাতে হাতে ফাইল ছাড়িয়ে নিয়ে যান| যার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খুলনা ওয়াসার ছাত্র প্রতিনিধি ও ˆবষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা ইব্রাহিম খলিল| ওই দিনই অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়ার শেষ কর্মদিবসে তড়িঘড়ি করে মন্ত্রণালয় থেকে মো: রেজাউল ইসলামকে পিডির রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়| তখন থেকে শোনা যায় মোটা অঙ্কের লেন-দেনের মাধ্যমে এটি করা হয়েছিল|
এদিকে গত ২৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আশরাফুল আফসারের ¯^াক্ষরিত পত্রে নির্বাহী প্রকৌশল রেজাউল ইসলামকে পিডির রুটিন ওয়ার্কের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়| আলোচিত পিডির এ পদটি চতুর্থ গ্রেডের| নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা| এ ব্যাপারে খুলনা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রেজাউল ইসলামের কাছে চেক চুরানব্বই কোটির ব্লাংক চেক সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শোনা মাত্রই বলেন, এগুলা আমি জানিনা| এ সব বিষয় আমি বলতে পারবো না| এসব আমি জানি না| একাউন্টা তার কি না জানতে চাইলে, তিনি বলেন, আমি তো আপনার নাম দেখতে পাচ্ছি, বলেন আপনি উল্টাপাল্টা বললে তো হবে না| আমি কিছুই জানিনা বলে, ফোন রেখে দেন| এ ব্যাপারে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো: বাবুল হাওলাদার বলেন, এশটি অ¯^াভাবিক লেন-দেন| এটির সঠিক তদন্ত হওয়া উচিৎ| আসলে চেকটি বা একাউন্টটির মালিক কে সেটি বের করা দরকার| যাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনি যদি না হয়ে থাকেন সেটিরও তদন্ত হওয়া উচিৎ এবং কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত সেটি বের করে মাস্তির আওতায় আনা দরকার ¯^চ্ছুার জন্য| তিনি বলেন, বিগত দিনে আলোচিত এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে খুলনার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন| দুর্নীতিবাজ এই প্রকৌশলীকে প্রকল্পের পিডি করা হলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে খুলনা ওয়াসার ২ হাজার ৫ শত ৯৮ কোটি টাকার এই দ্বিতীয় ফেজের কাজ|





































