বরিশাল নগরীতে ‘নিউরন’ নাম ব্যবহার করে একাধিক নার্সিং ভর্তি কোচিং পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই বা কাছাকাছি নাম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে ভর্তি করানো এবং পরে ওইসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নগরীর বটতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে গত কয়েক বছরে একই নামের সাথে ‘কেয়ার’, ‘স্পেশাল’সহ বিভিন্ন শব্দ যুক্ত করে একাধিক কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীরা প্রকৃত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে গিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনই একটি ঘটনার কথা জানিয়েছেন, স্বরূপকাঠি থেকে আসা শিক্ষার্থী তহুরা। তার দাবি, তিনি বরিশালের বটতলা এলাকায় মূল ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিংয়ে’ ভর্তি হওয়ার উদ্দেশ্যে এসে ভুলবশত ‘নিউরন কেয়ার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নোমান তাকে ভর্তি বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন, যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন সেটি তার কাঙ্ক্ষিত কোচিং নয়। এরপর টাকা ফেরত চাইলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
শুধু তহুরা নন, একইভাবে নামের মিলের কারণে আরও অসংখ্য শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণায় সাফল্যের তথ্য ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অপরদিকে ‘নিউরন’ নাম ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি এবং বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন মূল ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং’ কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল বটতলা শাখার পরিচালক আনিসুজ্জামান রাইয়ান বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন নামে কোচিং পরিচালনার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তার দাবি, গত তিন বছরে তাদের বরিশাল শাখা থেকে নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী সাফল্য পেয়েছেন।
রাইয়ানের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রথম বছরে ১৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন, দ্বিতীয় বছরে ২৫০ জনের মধ্যে ৫৯ জন এবং পরবর্তী বছরে ৮১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠান দেশব্যাপী ভালো ফলাফল করে আসছেন।
তার অভিযোগ, একই নাম ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারণে ‘নিউরন’ নামের মূল প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র ও পরিচালন কাঠামো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি তিনি আহবান করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ‘নিউরন কেয়ার নার্সিং ভর্তি কোচিং’ এর পরিচালক নোমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। এছাড়া 'নিউরন স্পেশাল নার্সিং ভর্তি কোচিং' এর পরিচালক তিমন মজুমদার জানান, তাদের বৈধ কাগজপত্র আছে কিন্তু পরে তা দেখাতে পারবেন।
অপর 'নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং অফিস' পরিচালক ফারজানা আক্তার বন্যা বলেন, সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে, একই নামে আগে প্রতিষ্ঠান থাকায় এখনো অনুমোদন পাইনি।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নার্সিং ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নগরীতে বিভিন্ন কোচিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাড়লেও প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয়, অনুমোদন, সাফল্যের তথ্য ও ভর্তি-সংক্রান্ত শর্ত যাচাইয়ের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত। ফলে দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা যেন বিভ্রান্ত বা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স শাখার ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান বলেন, সকল প্রতিষ্ঠানকে ফোন দিয়ে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য বলা হয়েছে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





































