“ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বেলুন উড়িয়ে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালির শুভ উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। র্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, ময়মনসিংহের পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রহ্মপুত্র নদ। নদীর তীরবর্তী বিদ্যমান স্থাপনাগুলোকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নিতে হবে। জয়নুল আবেদিন পার্ক, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা এবং নদীর তীরবর্তী পার্ককে ঘিরে সমন্বিতভাবে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাড়ে বাঁধ ও পার্ক নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলাধুলার মাঠ, স্টেডিয়াম, ইনডোর স্টেডিয়াম এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহের পর্যটন সম্ভাবনাকে শুধু শহরকেন্দ্রিক না রেখে জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানকে পর্যটন পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। হালুয়াঘাটের গাবরাখালী, মুক্তাগাছার ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি এবং গৌরীপুরের জমিদারবাড়িসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ভালুকাকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় আনা গেলে সেখানে শিল্প ও পর্যটন উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
চেয়ারম্যান বলেন, ভালো কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। ময়মনসিংহের উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে নানা প্রতিকূলতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করলে পর্যটনসহ জেলার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ময়মনসিংহের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কোনো পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বিত প্রচেষ্টাই পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। হালুয়াঘাট, নান্দাইল, ধোবাউড়া ও ত্রিশালসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাওয়া তথ্য সমন্বয় করে জেলার পর্যটন সম্ভাবনা ও তা বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ময়মনসিংহের পর্যটনের অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নদীভিত্তিক পর্যটন। তবে দেশের অন্যান্য এলাকার পর্যটন মডেল সরাসরি ময়মনসিংহে প্রয়োগ না করে স্থানীয় ভৌগোলিক ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। ব্রহ্মপুত্র নদের চরগুলোকে কেন্দ্র করে পিকনিক, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মতো কার্যক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠলে বেসরকারি খাতও পর্যটন অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কী কী করা সম্ভব, সেসব বিষয় চিহ্নিত করেই ময়মনসিংহের জন্য উপযোগী পর্যটন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মোঃ গোলাম মাসুম প্রধান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।





































