দেশের সব ডিপ ও শ্যালো সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চালানো হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
আজ যশোর সদর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের যৌথ আয়োজনে যশোর সদরের নদীয়ার মোড়, বর্মনপাড়া, চাঁচড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস ও কয়লা আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। আগে প্রতি ইউনিট গ্যাস ৮ থেকে ৯ ডলারে কেনা গেলেও এখন তা ২৮ ডলারে উঠেছে। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোদ, বাতাস ও পানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সেচ মৌসুমে ডিজেলের দাম বাড়ায় ও বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় কৃষকের সেচব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। তাই বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলার পাম্পে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ডিজেলের চড়া দামের মধ্যেও কৃষক সাশ্রয়ী খরচে সেচ দিতে পারেন।
তিনি জানান, যশোর সদরের লেবুতলা ইউনিয়নে এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেখানে সৌরশক্তিচালিত একটি পাম্প দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে বরেন্দ্র প্রকল্পসহ সারা দেশে প্রায় ৩৬ হাজার সেচ পাম্প চিহ্নিত করে সোলারে রূপান্তরের কাজ শুরু হচ্ছে। এ জন্য সরকার নিজস্ব বাজেট বা বৈদেশিক সহায়তা থেকে অর্থের সংস্থান করবে।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
বৈঠকে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলাকার সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সরাসরি জানানো এবং তাদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।





































