পার্বত্য চট্টগ্রামের বাজার ফান্ড এলাকায় দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বন্ধ থাকা ভূমি হস্তান্তর, বন্ধকি দলিল রেজিস্ট্রি ও ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম অবিলম্বে পূর্বের ন্যায় চালুর দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটি।
২৯ আগস্ট (শনিবার) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসমূহের উদ্যোগে রাঙ্গামাটি শহরের হ্যাপি মোড় থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বনরূপা পুলিশ বক্সের সামনে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজমের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান।
সমাবেশে কাজী মজিবর রহমান বলেন, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পার্বত্য তিন জেলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ পাচ্ছেন না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি সংকুচিত হচ্ছে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না এবং দিন দিন বেকারত্ব বাড়ছে। একই সাথে স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটির তৎকালীন জেলা প্রশাসক প্রথমবার বাজার ফান্ডের ভূমি রেজিস্ট্রির মিউটেশন স্থগিত করেন। পরবর্তীতে নানা দেন-দরবারের পর তা চালু হলেও ২০১৯ সাল থেকে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে পার্বত্য তিন জেলায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন পিসিএনপি নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলো :
লিজ ও ঋণ সুবিধা: বাজার ফান্ড প্লটের লিজের মেয়াদ ৯৯ বছরে উন্নীত করা এবং বন্ধ থাকা ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থা পূর্বের ন্যায় চালু করা।
একক ভূমি ব্যবস্থাপনা : জমি কেনাবেচা বা নামজারির ক্ষেত্রে ‘তিন দফা এলআর ফান্ড’ বাতিল করে দেশের অন্য ৬১ জেলার ন্যায় অভিন্ন ভূমি ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা।
সনদ বাধ্যবাধকতা বাতিল : জমি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসা, চাকরি ও শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে সার্কেল চিফের সনদ সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা।
খাজনা আদায় সহজীকরণ : হেডম্যান কার্যালয়ের পরিবর্তে উপজেলার ভূমি অফিসগুলোতে ভূমির কর বা খাজনা পরিশোধের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করা।
নিরাপত্তা ও ক্যাম্প পুনঃস্থাপন : দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে পূর্বে প্রত্যাহার করা ব্রিগেড ও ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন করা।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. রেজাউল করিম মাস্টার, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, পিসিএনপি রাঙ্গামাটি জেলার সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, খাগড়াছড়ি জেলার আহ্বায়ক আবদুল মজিদ, বান্দরবান জেলার সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর হোসেন, মহিলা পরিষদের সভাপতি মোরশেদা আক্তার এবং পিসিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।





































