ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘির একমাত্র কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বাগেরহাটের স্থানীয় জনসাধারণ ও সুধী সমাজ। ঐতিহ্যবাহী এই কুমিরটিকে অনতিবিলম্বে মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে তারা এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খানজাহান আলী মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফকির তরিকুল ইসলাম । সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শত শত বছর ধরে এই মাজার, দিঘি এবং কুমির বাগেরহাটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে আসেন শুধু ঐতিহাসিক এই নিদর্শন ও কুমিরটি কে একনজর দেখার জন্য। এটি কেবল একটি প্রাণী নয়, বরং বাগেরহাটের ঐতিহ্যের প্রতীক, মানুষের আবেগের অংশ এবং ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মারক।
নিরাপত্তা জোরদারের সুযোগ ছিল, সরানো ঠিক হয়নি সম্প্রতি দিঘিতে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় (শিশুর মৃত্যু) গভীর শোক প্রকাশ করেন ও নিহত শিশু ফাতেমার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। তবে এই ঘটনার অজুহাতে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী কুমিরটিকে হঠাৎ করে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সুধী সমাজের দাবি প্রশাসন চাইলে দিঘির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর ও জোরদার করতে পারত। দর্শনার্থীদের জন্য সুরক্ষা বেষ্টনী, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত পাহারার ব্যবস্থা করে কুমিরটিকে দিঘিতেই সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল।
সংশ্লিষ্টদের মতামত না নিয়ে রাতে জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। "জনগণের আবেগ, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক এবং বাগেরহাটের এই শতবর্ষী ঐতিহ্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে কুমিরটিকে দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তিনি আরো বলেন স্থানীয়দের নিজস্ব উদ্যোগ ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে দিঘির পাড়ে অতিরিক্ত পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আশ্বাস দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকার, প্রশাসন ও বন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সাধারণ মানুষের যৌক্তিক দাবির প্রতি যেন সম্মান প্রদর্শন করা হয়। একই সাথে গণমাধ্যমকে ও এই দাবি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার অনুরোধ জানানো হয়।
অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—
মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকির পিয়ার আলি, সাবেক ইউপি সদস্য কাজি সাকিল আহম্মেদ (তারেক), ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম সহ এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা।





































