প্রথম স্ত্রীর একমাত্র ছেলেকে জমিজমা থেকে বিতারিত করতে বিয়ে পাগল বাবা ও চতুর্থ নাম্বার সৎ মায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এলাকায় মিথ্যে অপপ্রচার ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ওই একমাত্র ছেলেকে তার বিয়ে পাগল বাবা ও সৎ মায় বাড়িছাড়া করেছেন। যে কারণে ভূমিহীন অবস্থায় ওই ছেলে তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তিনি ন্যায্য বিচার পেতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সমরসিংহ গ্রামের। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই গ্রামের আনোয়ার আকনের একমাত্র ছেলে হামিদ আকন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, গত আট বছর পূর্বে আমার মা হামিদা বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আমাদের তিনবোন এবং আমাকে না জানিয়ে বাবা আনোয়ার আকন (৬৫) খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া এলাকার এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
তিনি আরও বলেন, বাবার সেই দ্বিতীয় বিয়ে একবছরও টিকেনি। এরপর আবারো সবার অজান্তে বড় দুলালী গ্রামের এক নারীকে তৃতীয় বিয়ে করেন। তার (বাবা) সেই বিয়েও টিকেনি। সর্বশেষ বরগুনার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম নামের এক নারীকে চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে বাবা বিয়ে করেন। কয়েকদিনের মধ্যে ফাতেমা বেগমকে বাবা ডির্ভোস দিয়েছেন। পরবর্তীতে কয়েকমাস পর আবারও ফাতেমা বেগমকে ফিরিয়ে এনে বাবা সংসার করছেন।
হামিদ আকন আরও বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর আমাকে কিংবা আমার বোনদের না জানিয়ে এসব বিয়ে করলেও আমরা এনিয়ে কখনো তাকে (বাবা) বাঁধা দেইনি। উল্টো বাবা এবং সৎ মায়ের ভরনপোষন দিয়েছি। হামিদ আকন বলেন, আমি ব্যবসার সুবাদে রাজশাহীতে থাকতাম। সম্প্রতি বাড়িতে এসে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস শুরু করি। আমি বাড়িতে আসার পর থেকে বাবাকে কু-পরামর্শ দিতে থাকে আমার সৎ মা ফাতেমা বেগম। যানিয়ে আমাদের পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। বাবা এবং সৎ মায়ের রোষানলে পরে বর্তমানে আমি বাড়ি ছাড়া হয়ে অন্যত্র বসবাস করে আসছি।
অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, সৎ মায়ের কু-পরামর্শে বাবা আমাকে এবং আমার তিন বোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য একের পর এক জমি বিক্রি করে আসছেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ১২০ শতক জমি বিক্রি করেছেন। এনিয়ে আমি কিছু বলতে গেলে উল্টো আমাকে বিভিন্নভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি থানায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর তদন্তে তা মিথ্যে প্রমানিত হয়েছে। বর্তমানে আবারো আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এভাবে সৎ মা এবং বাবার রোষানলে পরে আমি (হামিদ আকন) ক্লান্ত হয়ে পরেছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে আনোয়ার আকন বলেন, টাকার জন্য হামিদ আমাকে এবং আমার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে মারধর করেছে। আমাদের ওপর সে যে অভিযোগ করেছে। তার কোনটাই সঠিক নয়। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, অনেকদিন পূর্বে বাবা-ছেলের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিলো। পরবর্তীতে থানায় বসে তারা নিজেরা মীমাংসা হয়ে গেছে।





































