বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা বাজার এলাকায় বিকাশ ও নগদের দুই ব্যবসায়ীর ব্যবসায়িক সিম ক্লোন করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নয়টি স্মার্টফোন, দুটি বাটন ফোন ও ২০টি সিম জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা। মঙ্গলবার(২৯সেপ্টেম্বর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাটের পুলিম সুপার মোঃ জামিরুল ইসলাম।
তিনি জানান, চিলা বাজারের বিকাশ ও নগদের ব্যবসায়ী সেলিম শেখ (৪১)-এর দুটি এবং অপর বিকাশ ব্যবসায়ী বিপ্লব মণ্ডলের (৩৭) একটি ব্যবসায়িক সিম গত ২৭ জুন ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা ২১ মিনিটের মধ্যে ক্লোনকৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে অত্যাধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে উত্তোলন করে প্রতারক চক্র। পরে সিম তিনটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেগুলোতে থাকা মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে ছয়টি পৃথক বিকাশ ও নগদ নম্বরে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর ১ জুলাই মোংলা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১৮, ২২, ২৪ ও ২৭ ধারায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে মামলা হওয়ার দিনই অভিযান চালিয়ে মোংলার মামার ঘাট এলাকা থেকে ইয়াছিন সওদাগর (২১) ও মো. শামীম শেখ (২৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়। শামীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ২২ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ও ফকিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া র্যাবের সহযোগিতায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শরনখোলা উপজেলার নলবুনিয়া এলাকার ইয়াছিন সওদাগর (২১), মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের শামীম শেখ (২৭), বাগেরহাট সদর উপজেলার বাগদিয়া এলাকার রাশেদ মোড়ল (২০), মোরেলগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব সরালিয়া এলাকার এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বানাতিবাজার এলাকার ফেরদাউস (২১), মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ষোলআনি এলাকার আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), একই উপজেলার জাইসতালা এলাকার মেহেদী হাসান (২৯), বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার মো. নাজমুল হাসান (২০) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ভয়াং এলাকার মো. মামুন গাজী (২১)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে Infinix Note12 Pro স্মার্ট, Orbit Y50 স্মার্ট, Infinix স্মার্ট, Realme C53 স্মার্ট, Vivo Y52 স্মার্ট, Infinix Smart 8 স্মার্ট, samsung Galaxy A23, RealmeC7 স্মার্ট ও TecnoPova Neo2 স্মার্ট মডেলের নয়টি স্মার্টফোন এবং দুটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসবের সঙ্গে ২০টি সিমও জব্দ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম পরীক্ষা করে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং নমুনা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা আলামত ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে তাঁদের ঘটনার সঙ্গে প্রাথমিকভাবে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।





































