খুলনা নগরীর হারিয়ে যাওয়া স্বাতন্ত্র্য ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে অপচয় ও দুর্নীতি রোধের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
তিনি বলেছেন, কাউকে দোষারোপ না করে খুলনা শহরকে নতুনভাবে পরিকল্পিত ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য যার যে দায়িত্ব রয়েছে, তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। অপচয় ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে খুলনাকে আবারও একটি সুন্দর ও নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা সহজ হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে ‘ক্লাইমেট রিজিলিয়েন্স স্ট্র্যাটেজি ফর খুলনা সিটি’ শীর্ষক কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জলবায়ু সহনশীল নগর পরিকল্পনায় গুরুত্ব
বাড়ির নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জলবায়ু সহনশীল কৌশল অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। অ্যাকম্প্যানি মেজর কনসালট্যান্ট (এএমসি) ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট (সিসিএইউডি) প্রোগ্রাম—ফেজ-২ যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় নগর পরিকল্পনা, ভবনের নকশা অনুমোদন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আবাসন ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
১২ ফুটের কম সড়কে বাড়ির অনুমোদন নয়
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সড়কের প্রশস্ততা ১২ ফুটের কম হলে সেখানে বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়। নগর পরিকল্পনায় ভবন নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সড়ক, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) নির্মিত বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় প্রয়োজনীয় অনেক সুবিধা নেই। অনেক জায়গা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় কিছু জায়গা বরাদ্দ পাওয়া গেলে কেসিসির উদ্যোগে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করা সম্ভব।
কেসিসি প্রশাসক বলেন, এসটিএস নির্মাণের জন্য অর্থের সংস্থান রয়েছে; কিন্তু জায়গার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
‘সবকিছুর মালিক রাষ্ট্র তথা জনগণ’
নগর উন্নয়নে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘সবকিছুর মালিক রাষ্ট্র তথা জনগণ। তাই সব সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খুলনাকে একটি পরিকল্পিত, সুন্দর ও নান্দনিক শহরে পরিণত করা সম্ভব। এ জন্য নগরীর বিভিন্ন স্থানে নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধানে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কর্মশালায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা
সিসিএইউডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, কেডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান এবং সিসিএইউডির টিম লিডার মেহেদী আহসান।
কর্মশালায় কেডিএ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত অধিদপ্তর, কেএমপির ট্রাফিক বিভাগ, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





































